প্রচ্ছদ > জাতীয় >

অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন চলছে

article-img

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সংসদে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাব নিয়ে আজ কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন— বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ডাক- টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং তারেক রহমানের সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

একটি দেশের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আর্থিক রূপ হলো বাজেট। এর মৌলিক সূচকগুলোর মধ্যে ব্যয়-আয়ের রূপরেখা থাকে। পাশাপাশি দেশের মানুষকে স্বস্তি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দিকনির্দেশনা এবং অর্থনীতির স্বাস্থ্য বুঝতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা থাকে। প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আয় জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। সরকারের আয়ের খাতগুলো একেবারে সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি যে কোনো সময়ের চেয়ে চ্যালেঞ্জে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অভাব, ঋণের সুদ পরিশোধ, রাজস্ব আদায় কম এবং ভর্তুকি-কোনো কিছুই সরকারের অনুকূলে নেই। অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার বাজার। উন্নয়ন সহযোগীদের মূল্যায়নেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ঋণ বন্ধ করেছে। ঋণ চালু রাখতে তারা সবকিছু মনিটরিং করছে। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি (ফিচ) তাদের রেটিংয়ে বাংলাদেশের মান নামিয়ে দিয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে তা বলা কঠিন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে এসব চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আয়ের লক্ষ্য অর্জন শুধু কঠিনই নয়; বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একেবারেই অসম্ভব। 

সরকারের ভাষ্য, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ’ ও ‘সবার জন্য উন্নয়ন’ দর্শনের ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এজন্য ১০টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। তবে স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বিশ্বাস করো, আর না-ই করো, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।’ সরকারের এই বাজেটে স্বপ্নের অভাব নেই। কিন্তু স্বপ্ন যত বড় হবে, বাস্তবতার পরীক্ষাও তত কঠিন হবে। 

বাজেট বক্তৃতা ও অর্থবিলে যে কথাটি বারবার এসেছে, তা হলো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন। এ লক্ষ্যেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে ৭ বছর সর্বোচ্চ বরাদ্দ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।